চট্টগ্রাম বন্দরে নিষিদ্ধ ৪২০০ কেজি ঘনচিনি জব্দ
চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানিকৃত নিষিদ্ধ ৪২০০ কেজি ঘনচিনি (Sodium Cyclamate) জব্দ করেছে কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ঢাকা–এর সহায়তায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের গোয়েন্দা টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
বুধবার এনবিআরের জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ঢাকার কেরানিগঞ্জে এজাজ ট্রেডিং — পলিঅ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড ঘোষণায় চীন থেকে একটি কনটেইনারে মোট ২২ হাজার ৮৮ কেজি পণ্য আমদানি করে। পণ্যটি ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস পণ্যের খালাস স্থগিত করে এবং ৬ নভেম্বর কায়িক পরীক্ষা পরিচালনা করে। পরীক্ষায় দুই ধরনের পণ্য পাওয়া গেলে নমুনা সংগ্রহ করে কাস্টমস হাউসের ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৭ হাজার ৮০০ কেজি Polyaluminium Chloride থাকলেও বাকি ৪ হাজার ২০০ কেজি পণ্য আসলে ঘনচিনি (Sodium Cyclamate)।
জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর:
ঘনচিনি (Sodium Cyclamate) সাধারণ চিনির তুলনায় ৩০–৫০ গুণ বেশি মিষ্টি এক ধরনের কৃত্রিম মিষ্টিকারক। মিষ্টি, বেকারি, আইসক্রিম, বেভারেজ, জুস, চকোলেট, কনডেন্সড মিল্ক ও শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা এটি ব্যবহার করে থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উপাদান থেকে ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের জটিল রোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশে ঘনচিনি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন:
নিষিদ্ধ এই পণ্য আমদানির অপরাধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী চালানটি আটক করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কাস্টমস হাউস জানায়, এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে পৃথক দুই চালানে প্রায় ১০০ টন নিষিদ্ধ ঘনচিনি জব্দ করা হয়েছিল। ওই ঘটনাগুলোরও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।








আপনার মতামত লিখুন