আবাসন বৃত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ, হলবাসীরাও পেলেন সুবিধা
বাদ পড়লেন জবির নবীন ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত আবাসন বৃত্তির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরপরই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তালিকায় এমন বহু শিক্ষার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে অবস্থান করছেন। অথচ সবচেয়ে বেশি আবাসন সংকটে থাকা নবীন ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের তালিকা মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী আবাসন বৃত্তির আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে ২০১৯–২০ থেকে ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাই মূলত সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ‘পরবর্তী ধাপে বিবেচনা করা হবে’—এমন আশ্বাসে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এতে একদিকে হলে থাকা শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধার পাশাপাশি বৃত্তির অর্থও পাচ্ছেন, অন্যদিকে অনাবাসিক অবস্থায় মেস ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা নবীনরা কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না। ফলে আবাসন বৃত্তির উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
২০তম ব্যাচের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শফিক খান হাসিব বলেন,
“নতুন শহরে এসে আমরা চরম সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। থাকার জায়গা, টিউশন—সবকিছুই অনিশ্চিত। অথচ যারা হলে থাকেন, তারাই আবার বৃত্তিও পাচ্ছেন। আমাদের জন্য কোনো ব্যবস্থাই নেই—এটা সরাসরি বৈষম্য।”
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন,
“বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনা থাকতে পারে। কিন্তু ঢালাওভাবে হলবাসীদের বৃত্তি দিয়ে পুরো ২০ ব্যাচকে বাদ দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। এতে বৃত্তির মূল লক্ষ্য ব্যাহত হয়েছে।”
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বলেন,
“আমরা যখন ভর্তি হইনি, তখন আন্দোলনে অংশ নিইনি—এই যুক্তিতে আমাদের বাদ দেওয়া অমানবিক। আন্দোলনের সুফল সবার জন্যই হওয়া উচিত।”
শিক্ষার্থীরা দ্রুত আবাসন বৃত্তির নীতিমালা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী হলে সিট পাননি এবং বাইরে থেকে ব্যয়বহুলভাবে পড়াশোনা চালাচ্ছেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন,
“আবাসন বৃত্তি মূলত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হওয়া উচিত। তালিকায় অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধনের দাবি জানানো হবে।”
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, জবির শিক্ষার্থীদের ‘লং মার্চ টু যমুনা’ আন্দোলনের পরই আবাসন বৃত্তির সিদ্ধান্ত আসে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নবীনদের বাদ পড়ায় এই উদ্যোগ এখন শিক্ষার্থীদের মধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।








আপনার মতামত লিখুন