পাবিপ্রবি গ্রীন ভয়েসের উদ্যোগে মানববন্ধন
পাখিবন্ধু আকাশকলি দাসের অভয়াশ্রম রক্ষার জোরালো দাবি

পাবনার বেড়া উপজেলার কৈটোলা গ্রামে প্রয়াত পাখিপ্রেমী আকাশকলি দাস-এর গড়ে তোলা পাখির অভয়াশ্রম দখলমুক্ত ও সংরক্ষণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ।
মঙ্গলবার দুপুরে ন্যাচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটি এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস-এর যৌথ উদ্যোগে পাবনা শহরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আকাশকলি দাসের মৃত্যুর সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র জাল দলিল ও প্রতারণার মাধ্যমে তার সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ সময় নির্বিচারে গাছ কেটে পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল ধ্বংস করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
জানা যায়, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া প্রায় ৪০ বিঘা জমির মধ্যে আকাশকলি দাস নিজ উদ্যোগে ৭ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছিলেন সবুজে ঘেরা একটি পাখির অভয়াশ্রম। জীবদ্দশায়
তিনি বারবার বলতেন,
“আমি এই জমির মালিক নই, আমি কেবল পাখিদের তত্ত্বাবধায়ক।”
তবে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট তার মৃত্যুর পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর তিন মাস আগে অসুস্থ আকাশকলি দাসকে দেখভালের অজুহাতে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান তার প্রতিবেশী জ্ঞাতি ভাই অসিত ঘোষ ও অসীম ঘোষ। মৃত্যুর পর তারা দাবি করেন, আকাশকলি দাস তার সমস্ত সম্পত্তি তাদের দান করে গেছেন এবং এর একটি অংশ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী-এর কাছে বিক্রি করেছেন।
কৈটোলা ভূমি অফিসের নথি অনুযায়ী, আকাশকলি দাসের মৃত্যুর মাত্র ১৮ দিন আগে—৩১ জুলাই ২০২৫—দুটি দলিলের মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া যায়। তবে এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের দাবি, অশীতিপর ও শয্যাশায়ী একজন মানুষের পক্ষে সে সময় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিল সম্পাদন করা বাস্তবসম্মত নয়। তারা এটিকে পরিকল্পিত জালিয়াতি বলে উল্লেখ করেন।
বর্তমানে সেখানে আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কাটা এবং পাখিদের তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা বলেন,
“পাখিদের এই অভয়াশ্রম রক্ষা করা আমাদের পরিবেশগত দায়িত্ব। জমি দখলের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভয়াশ্রম রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আকাশকলি দাসের আজীবনের সাধনায় গড়ে ওঠা এই অভয়াশ্রম রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।








আপনার মতামত লিখুন