ইলিশের বাজারে বৈশাখের উত্তাপ
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে জমে উঠেছে পান্তা-ইলিশের প্রস্তুতি। তবে উৎসবের আগমুহূর্তেই ইলিশের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের স্বপ্নে ভাঁটা ফেলেছে। চার দিনের ব্যবধানে কেজিতে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে ভালো মানের ইলিশ ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে মাছটি, এমনকি মধ্যবিত্তরাও দামের চাপে কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে—
১–১.৫ কেজি ওজনের পদ্মার ইলিশ: ৩৮০০–৪০০০ টাকা (এক সপ্তাহ আগে ৩২০০–৩৫০০)
প্রায় ১ কেজি: ৩২০০–৩৫০০ টাকা
৮০০–৯০০ গ্রাম: ৩০০০–৩২০০ টাকা
এছাড়া চাঁদপুর ও বরিশাল অঞ্চলের ইলিশের দামও বেড়েছে
১ কেজির বেশি: ৩২০০–৩৫০০ টাকা
১ কেজি: ২৭০০–৩০০০ টাকা
৮০০–৯০০ গ্রাম: ২৩০০–২৫০০ টাকা
তবে কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষিত পুরোনো ইলিশ তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হচ্ছে, যা ২৫০০–২৮০০ টাকার মধ্যে।
কাওরান বাজারে মাছ কিনতে আসা মো. কামাল হোসেন বলেন, “পহেলা বৈশাখে পরিবারের জন্য ইলিশ কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু দাম শুনে আর কেনা সম্ভব হলো না। ভালো বেতন পেয়েও এবার ইলিশ কেনার সাহস হচ্ছে না।”
নয়াবাজারে বাজার করতে আসা মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, “রোজার সময়ও মাছের দাম এত ছিল না। এখন হঠাৎ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। পরিবারের জন্য মাছ কেনাই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে— পাঙ্গাশ: ২০০ টাকা, তেলাপিয়া: ২৩০ টাকা, রুই: ৩৫০ টাকা, মৃগেল: ২৫০–৩০০ টাকা, দেশি টেংরা: ৬০০ টাকা, চিংড়ি: ৯০০ টাকা, কই: ৪০০–৫০০ টাকা, শোল: ৭০০ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ কমে যাওয়া ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। এছাড়া অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগও রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে পান্তা-ইলিশের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন থেকে সাধারণ মানুষ দূরে সরে যাবে, যা বাঙালির সাংস্কৃতিক উৎসবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।








আপনার মতামত লিখুন