নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদের বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের আয়োজনে ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩ মে ২০২৬, রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবনে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজকে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। একইসাথে যাঁরা আমাদের সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন সেই প্রখ্যাত শিল্পীদের নামে পুরস্কারের নামকরণ করায় তাঁদের স্মরণও করা হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে চারুকলার অবদান কোনো অংশে কম নয়। সমাজ ও সংস্কৃতিকে উন্নয়নের জন্য চারুকলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাবে যেন আমাদের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে। তিনি মনে করেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের পরিবর্তনের ধারার মাঝেও বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে হবে। চারুকলার শিক্ষার্থীরা তাঁদের সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে সমাজ ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে এবং ভবিষ্যতে জয়নুল আবেদীন, এস এম সুলতান ও কামরুল হাসানের মতো গুণী শিল্পী হয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। এছাড়া চারুকলার মাধ্যমে সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতা বিকাশ পেয়ে তা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী ও চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন)। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুম হাওলাদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চারুকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার।
বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬ এ ড্রইং এন্ড পেইন্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও প্রিন্টমেকিং এই তিনটি স্ট্রীমে মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীকে তাদের নিজ নিজ শিল্পকর্মের জন্য পুরস্কৃত করা হয়। মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার প্রদান করেন।
ড্রইং এন্ড পেইন্টিং বিভাগে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পুরস্কার পেয়েছেন সিনথিয়া আক্তার শান্তা, শিল্পী এস এম সুলতান পুরস্কার পেয়েছেন অরিন সাহা, নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন বিশাল পাল এবং সম্মান পুরস্কার পেয়েছেন সৌভিক ঢালী ও স্বপ্নীল পাল। গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগে শিল্পী কামরুল হাসান পুরস্কার পেয়েছেন তাশফিয়া সামিহা সুপ্তি, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী পুরস্কার পেয়েছেন হাসিব সিদ্দিকী, নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন ইসরাত জাহান অনন্যা এবং সম্মান পুরস্কার পেয়েছেন মুন্নি চক্রবর্তী।
প্রিন্ট মেকিং বিভাগে শিল্পী শফিউদ্দিন আহমেদ পুরস্কার পেয়েছেন জুবায়ের আহমেদ, শিল্পী মোহাম্মদ কিবরীয়া পুরস্কার পেয়েছেন ফারিয়া কবীর, নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন রিপন রায় এবং সম্মান পুরস্কার পেয়েছেন থোয়াই অং সিং মারমা ও তাসনিম আরা। এছাড়া সেরা মাধ্যম পুরস্কার (পেন্সিল) পেয়েছেন সামং মারমা এবং মাধ্যম পুরস্কার (পেন্সিল) সম্মান পেয়েছেন মো. সাদমান হাবিব সামি।
প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের শতাধিক শিল্পকর্ম স্থান পায় বলে বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি কাজেই প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবন, ইতিহাস, সমসাময়িক সমাজচিত্র ও কল্পনার অনন্য প্রকাশ ফুটে ওঠে। দর্শনার্থীরা এই বৈচিত্র্যময় ও নান্দনিক আয়োজনকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এমন আয়োজন নিয়মিত হলে সৃজনশীলতা বিকাশ ও নতুন শিল্পী তৈরির সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








আপনার মতামত লিখুন