রাবির ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের ১১তম ব্যাচের নবীন বরণে ১০ম ব্যাচের জমকালো আয়োজন

“আহ্বান” একাদশের সূচনায়, “দশমের আয়োজন”—এই স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে এবং বিভাগের সংস্কৃতির ধারা অব্যাহত রেখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)-এর ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের ১১তম ব্যাচের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেয় ১০ম ব্যাচ।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার শিক্ষক-শিক্ষার্থী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি)-তে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাবিলা ও মুশফিকের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস। প্রোগ্রামের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় বেলা ১১টায়। কুরআন তিলাওয়াত, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য, রম্য বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক পর্বসহ পুরো দিনজুড়ে ছিল নানান আয়োজন।
প্রোগ্রামের সার্বিক অনুভূতি ব্যক্ত করে বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসিফ আরাফাত সৌরভ বলেন, বরাবরের মতো এবারও রাবির ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের নবীনদের বরণ করা হয়েছে। বিভাগের সংস্কৃতি অনুযায়ী জুনিয়রদের আনুষ্ঠানিকভাবে নবীন বরণ দেওয়া হয়। আজ আমাদের বিভাগের দুই ব্যাচের এই মিলনমেলা সারাজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, এমন সুন্দর আয়োজন ও একটি স্মরণীয় দিনের জন্য বিভাগের ১০ম ব্যাচকে ধন্যবাদ জানাই।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আমি তোমাদের (১১তম ব্যাচ) ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আজ আমরা যে স্টেজে বসে আছি, একসময় এই স্টেজে আমরা তিন থেকে চারজন শিক্ষক বসতাম। কিন্তু এখন আমাদের বিভাগে শিক্ষকের সংখ্যা বেড়েছে এবং একই সঙ্গে এই স্টেজটিও পরিপূর্ণ হয়েছে। আজ শিক্ষকেরা তোমাদের উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলো নিজেদের মধ্যে ধারণ করার চেষ্টা করবে।”
নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী চাইলে তার পুরো জীবন পরিবর্তন করতে পারে। সে তার অতীত ভুলে ভবিষ্যতের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখতে পারে। তোমাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষকরা সর্বদা তৎপর। তোমরা যখন ভবিষ্যতে ভালো অবস্থানে পৌঁছাও, সেটিই আমাদের গর্বের বিষয়।”
সভাপতির বক্তব্যে রাকিবুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের এমন সুন্দর আয়োজন প্রশংসনীয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের এই সম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ববোধ ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার পরামর্শ—নিজেদের আদর্শ ছাত্র হিসেবে গড়ে তোলো।”
তিনি আরও বলেন, “একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর যে গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, সেগুলো নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে হবে। আমাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটাতে হবে। নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে হবে। নিজেকে একজন গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং বিশ্বে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।”
প্রসঙ্গত, বিভাগের ১০ম ও ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বিভাগের সকল শিক্ষকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ সময় পুরো টিএসসিসি প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।







আপনার মতামত লিখুন