সাগর-রুনি হত্যাকান্ড : আর কোন মেঘের জীবন এমন না হোক

দেশের আলোচিত হত্যাকান্ডের মাঝে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি খুনের ঘটনা অন্যতম। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি নিজ ভাড়া বাসায় খুন হন। এ সময় বাসায় ছিল তাদের একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।
গত রোববার (৩০ নভেম্বর) আলোচিত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১২২তম বারের মতো পিছিয়েছে। এরপর এটা নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করতেই একটা লিখা চোখে পড়লো। সেখানে উল্লেখ করা হয় ‘‘সাগর-রুনির পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মেঘ ঘুম থেকে উঠে বাবা-মায়ের শোবার ঘরে গিয়ে তাদের লাশ দেখতে পায়। বাবা মায়ের লাশ দেখতে পেয়ে মেঘ তার নানীকে ফোন করে জানায় যে তার বাবা-মা মরে গেছে।’’ ঘটনাটি কতখানি হৃদয়বিদারক সেটা কি ভাবা যায়!
সাংবাদিকতা সব সময়েই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা, তাতে কোন সন্দেহ নেই। প্রকৃত সাংবাদিকতা করতে গেলে সমাজ, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং শোষক শ্রেণীর বিরাগভাজন হতে হয় এটাও স্বাভাবিক।তবে স্বাভাবিক এই ঘটনাটিই এখন কিছুটা কম দেখা যায়। কজনই বা প্রকৃত সাংবাদিকতাটা লালন করেন, সেটাও এখন বড় প্রশ্ন। চাটুকারিতা আর পদলেহনের মনোভাব ঝেড়ে ফেলে কজনই বা কাজ করতে পারেন সে প্রশ্ন রয়েই যায়। যদি তা না হতো তবে বারবার তদন্ত প্রতিবেদন পেছানোর পরও সাংবাদিক নেতা এবং সংগঠন গুলোর জোড়ালো কোন পদক্ষেপ চোখে পড়ার মতো নয় কেন? আর যতটুকু কথা বলছেন তাও দায়সারাভাবে!
আমরা আশা করবো অতিদ্রুতই এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে বিচারকার্যও তাড়াতাড়ি শেষ হবে। বাবা মা ছাড়া বেঁচে থাকা কত কষ্টকর সেটা হয়ত মেঘই একমাত্র উপলব্ধি করতে পারছে। শুধুমাত্র স্বাধীন সাংবাদিকতার বলি হয়ে আর কোন মেঘের বাবা মায়ের পরিণতি এমন নির্মম না হোক।








আপনার মতামত লিখুন