নির্বাচনের আগে সতর্ক থাকতে হবে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অসুস্থ হয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৭৯ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। তবে গতকাল বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ‘সুখবর’ দিয়েছে তার চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ড। তারা জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এন্ডোস্কপি সম্পন্ন হয়েছে এবং তার পাকস্থলির রক্তক্ষরণও বন্ধ হয়েছে। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার উদ্দেশ্যে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকায় এসেছেন তার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান। ঢাকায় পৌঁছেই তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শাশুড়ির সর্বশেষ অবস্থার খোঁজখবর নেন।
এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন দোরগোড়ায়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) তারিখটিকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি ৮ ফেব্রুয়ারিকেও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আগামী সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা হতে পারে। সম্ভবত আগামী বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কিংবা বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর)। জটিল কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে তফসিল পেছাবে না বলেও জানা গেছে। এমনকি কোনো কারণে তফসিল পিছিয়েও গেলে ভোট নির্ধারিত তারিখেই অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য। নাম প্রকাশ না করে তিনি এসব তথ্য গণমাধ্যমে জানিয়েছেন।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন পেছানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার ভাষায়, ‘নির্বাচন তো নির্বাচনের জায়গায়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি নির্বাচন চাইবেন তিনিই।’
ইতোমধ্যে নির্বাচনি প্রস্তুতিতেও রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তরুণদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলছে, সব দল রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হলেই তফসিল ঘোষণা করা উচিত। অন্যদিকে জামায়াতও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে মনে হয়। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা সৃষ্টি ও রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আরও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনগণ—সব পক্ষকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। আগামী তিন মাস শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো উপমহাদেশের ভূ-রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সর্বক্ষণ সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে চারদিকে, যেন সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
সে সঙ্গে একটি অবাধ, সুস্থ, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এ মুহূর্তে অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই হতে পারে এ দেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের একমাত্র পন্থা।







আপনার মতামত লিখুন