প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সংবর্ধনা বৃহস্পতিবার
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হবে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর)।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টে (প্রধান বিচারপতির এজলাসে) এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান প্রধান বিচারপতিকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করবেন।
ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে গত বছরের ১০ আগস্ট নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ১১ আগস্ট শপথ গ্রহণ করেন।
তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ও প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে বিএ ও এমএ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণকারী ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে, ১৯৮৬ সালে হাইকোর্টে এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিচার বিভাগ ও বিচারপ্রার্থীদের কল্যাণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সারাদেশের বিচারকদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে তিনি বিচার বিভাগের জন্য একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। এতে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, বিচারক নিয়োগে পৃথক আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরই মধ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা জানান, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় গৃহীত নানা উদ্যোগের কারণে ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রধান বিচারপতি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।








আপনার মতামত লিখুন