ঈদ আনন্দের চেয়ে দায়িত্ব বড়; ক্যাম্পাসেই ঈদ করবেন কুবির আনসার-নিরাপত্তা কর্মীরা

‘ঈদ’ মাত্র দুই অক্ষরের একটি শব্দ, কিন্তু এর ভেতর লুকিয়ে থাকে অসংখ্য আনন্দ, প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা এবং পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলনমেলার আবেগ। ঈদ এলেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে মানুষ। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে, কর্মজীবীরা কর্মস্থল ছেড়ে ছুটে যান প্রিয়জনদের কাছে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
তবে এই উৎসবের আনন্দের আড়ালে কিছু মানুষের জীবনে থেকে যায় অপ্রাপ্তি ও বেদনার গল্প। কারণ, সবার মতো তাদের পক্ষে পরিবার নিয়ে ঈদ উদ্যাপন করা সম্ভব হয় না। দায়িত্বের তাগিদে তারা নিজের আনন্দকে পাশে সরিয়ে রেখে অন্যদের নিরাপদ রাখতে কাজ করে যান। আপাতদৃষ্টিতে এই ত্যাগ ছোট মনে হলেও, তাদের অনুভূতির গভীরতা অনেক বড়।
‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার’ ছুটিতে বাড়ি ফেরার সময় অন্তত একবার হলেও অনেকেই এই গানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে স্মৃতিকাতর হন। কিন্তু সবার ভাগ্যে কি এমন স্মৃতিময় মুহূর্ত জোটে? কিছু মানুষ আছেন, যারা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজের ঈদ আনন্দকে বিসর্জন দেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ঈদের ছুটি চলছে। ফলে পুরো ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেশিরভাগই বাড়িতে চলে গেছেন। তবে কিছু মানুষ এবারও বাড়ি ফিরতে পারছেন না। তারা ফাঁকা ক্যাম্পাসে থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের কাছে দায়িত্বই ঈদ আনন্দের চেয়ে বড়।
জানা গেছে, এবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ৪৯ জনের বেশি আনসার সদস্য এবং ২২ জন নিরাপত্তাকর্মী ঈদের সময় ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করবেন। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। অন্য সময়ে হয়তো তারা পরিবারে ফিরতে পারবেন, কিন্তু পরিবার, বন্ধু ও এলাকাবাসীর সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ এবারও হাতছাড়া হচ্ছে।
কুবিতে কর্মরত আনসার সদস্য প্লাটুন কমান্ডার মো. দুলাল আহমেদ। প্রায় পঁচিশ বছরের কর্মজীবন তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বড় হয়েছেন তিনি। শৈশবে পরিবারের সঙ্গে অনেক ঈদ কাটিয়েছেন। বর্তমানে চার সন্তানের জনক। কিন্তু দায়িত্বের খাতিরে সন্তানের ঈদ আনন্দের অংশীদার হতে পারছেন না এবার। তবে সন্তানদের কথা ভেবেই বেতন পেয়েই তাদের জন্য পাঠিয়েছেন ঈদ উপহার।
পরিবার ছাড়া ঈদ উদ্যাপন নিয়ে জানতে চাইলে মলিন হাসি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদে পরিবারের সবাই একসঙ্গে আনন্দ করে, কিন্তু আমি থাকতে পারি না। আমাদের কাছে দায়িত্বটাই বড়। সারা বছর কাজেই থাকতে হয়। জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ছুটি পাওয়া কঠিন। ঈদের সময় মনটা একটু খারাপ হয়, পরিবারের সঙ্গে থাকতে ইচ্ছা করে, কিন্তু যাওয়া হয়ে ওঠে না। কারণ দেশের নিরাপত্তাই আগে। সবার আগে দেশ, তারপর অন্যসব। আমরা সবাই মিলে ক্যাম্পাসেই ঈদ উদ্যাপন করি, তবে একটা সুপ্ত অপ্রাপ্তি থেকেই যায়।’
আরেক নিরাপত্তাকর্মী মো. সাদেক হোসেন মজুমদার। তার চাকরির বয়স ১২ বছর। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনিও এবারের ঈদ কাটাচ্ছেন পরিবার থেকে দূরে। পরিবারের বাইরে ঈদ কাটানোর অনুভূতি জানতে চাইলে কষ্ট ভরা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘দেশের হয়ে কাজ করছি, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছি। ঈদের আনন্দের চেয়ে দায়িত্বটাই বড়। পরিবার ছাড়া ঈদ করা কষ্টের, কিন্তু আমার কাছে দায়িত্বটাই বেশি মূল্যবান।’








আপনার মতামত লিখুন