রাকসুর উদ্যোগে সঠিক তথ্য যাচাইয়ে ফ্যাক্ট চেকিং কর্মশালা আয়োজিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের ফ্যাক্ট চেকিং প্রশিক্ষণ এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। সঠিক তথ্য যাচাই এবং ভুয়া তথ্য মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজিত হয়।
রবিবার (১৭ মে) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজিত হয়।
উক্ত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মুজাহিদ ইসলাম, সহ মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক আসাদুল্লাহ গালিব সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও প্রশিক্ষক হিসেবে কদরুদ্দিন শিশির উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যাক্ট চেকিং -এর প্রশিক্ষক কদরুদ্দিন শিশির বলেন, ইমপোস্টার কনটেন্টর ক্ষেত্রে ফটোকার্ডে যা লেখা থাকে নিউজের ভেতরে গেলে দেখা যায় ভিন্ন তথ্য। অনেক সময় এমন নিউজের কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভুয়া খবরের ক্ষেত্রে তথ্যসূত্রের নাম উল্লেখ না করে সেনসিটিভ ইসুতেও নির্ভরযোগ্য তথ্য জনিয়েছে, গোপন সূত্র থেকে জানা গেছে, আরো সূত্র জানান এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ওয়েবসাইটে ফ্যাক্ট চেকিং এবং ভিজিটের মাধ্যমে জানা যায় কারা বেশি ভুয়া তথ্য ছড়ায়। তখন সেই পত্রিকা বা সংবাদ মাধ্যমের প্রতি সতর্ক থাকা যায়। যদি কোন সোর্স রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব থাকে তাহলে সেই নিউজ গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
এছাড়াও তিনি বলেন, যেখানে ধর্মীয়, জরিপ, কনফ্লিক্ট এবং জাতীয়তাবাদী আবেগ আছে সেসকল নিউজের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় আবেগকে পুঁজি করে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়। বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যবহৃত ফটোকার্ডের মতো ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে বিভিন্ন ফেক পেজ থেকে তথ্য প্রকাশ করা হয়। এক্ষেত্রে পেজের নামের বানানের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
এছাড়াও, তিনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কিভাবে ফ্যাক্ট চেক করা যায় সেই বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেন। এর বাইরেও ভুয়া তথ্য মোকাবেলায় বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আজকের এই কর্মশালাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের পূর্বের যে জেনারেশন, বিশেষ করে যাদের বয়স ৩৫ বছরের ঊর্ধ্বে, তারাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এআই-সম্পর্কিত কনটেন্ট সবচেয়ে বেশি শেয়ার করে। তাদের এই প্রবণতা সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। আমি আগে একটি কর্মশালায় বলেছিলাম, আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ভাই ও বোন মিডিয়া সম্পর্কিত নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হয়। আজকের এই সেমিনারে উপস্থিত সকলের প্রতি আমার পরামর্শ যেসব জায়গায় সবচেয়ে বেশি লোভনীয় অফার দেওয়া হয়, সেসব জায়গা থেকে সচেতন থাকবেন।”
মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মুজাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জানি, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে অসংখ্য তথ্য আসে। কিন্তু এর মধ্যে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা তা অনেক সময় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মিথ্যা তথ্য সত্য তথ্যের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আজকের এই কর্মশালায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ক এ কর্মশালায় সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে সেটির সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে তা বিশ্বাস করা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া শেয়ার করা উচিত নয়। আজকের এই কর্মশালা শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আরও সচেতন করে তুলবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহা.মাঈন উদ্দিন বলেন,
গুজবের পরিবর্তে সত্য তথ্যের প্রতি আমাদের আগ্রহী হতে হবে। কোনো তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্বাস না করে আগে সত্যতা যাচাই করতে হবে। কারও সম্পর্কে কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস করা যাবে না এবং প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কিছু লেখার আগে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে লেখা উচিত।








আপনার মতামত লিখুন