ছাত্র প্রতিনিধি ছাড়াই বসছে চবির ৩৬তম সিনেট সভা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম সিনেট সভা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার (৮ আগস্ট)। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম নীতিনির্ধারণী এ সভায় থাকছেন না কোনো ছাত্র প্রতিনিধি। বিশ্ববিদ্যালয় আইনে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের বিধান থাকলেও প্রতিনিধি নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়নি।
এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট পাস, বার্ষিক প্রতিবেদন অনুমোদন এবং বিশ্ববিদ্যালয় আইনের মূল কাঠামো প্রণয়ন বা সংশোধনের ক্ষমতাসম্পন্ন এই পর্ষদে ভূমিকা পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী সিনেটে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজন প্রতিনিধি এবং রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ২৫ জন প্রতিনিধি থাকার কথা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচন কখনোই অনুষ্ঠিত হয়নি। অন্যদিকে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্ব শূন্য রয়েছে।
গত বছরের ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনেও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে নির্বাচিত বর্তমান চাকসু প্রতিনিধিরাও আসন্ন সিনেট সভায় সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিদের সিনেটে পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “দীর্ঘ ৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচন হলেও আমাদের সিনেট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়নি। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সিনেট নির্বাচনও হলেও তৎকালীন প্রশাসন হয়তো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিবেচনায় সিনেট নির্বাচন দেয়নি। পরবর্তীতে চাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় আমি বারবার বিষয়টি উত্থাপন করলেও আর তা হয়নি। বিগত প্রশাসন আমাদের সিনেটে ডাকেনি। বর্তমান প্রশাসন আমাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানালেও সেখানে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই।”
চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, “আমাদের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনের কথা আছে। তবে এটি কখনোই হয়নি। চাকসু নির্বাচনের পর আমরা সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলাম। তৎকালীন প্রশাসন এটি আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহী থাকলেও তা হয়নি। বর্তমান উপাচার্যের কাছেও আমরা এই দাবি জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, “চাকসু নির্বাচনের সময় সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের আয়োজনের বিধান ছিল। কিন্তু বিগত প্রশাসন সেটি করেনি। যার ফলে ছাত্র প্রতিনিধিরা এই সিনেট সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারবেন। সিনেটের যেসব ক্যাটাগরিতে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের বিধান রয়েছে, আমরা সেগুলোর নির্বাচন আয়োজন করব।”








আপনার মতামত লিখুন