রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা আজ
ছবি- সংগৃহীত।
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি পদে নিজেদের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত কয়েকদিন ধরে রাষ্ট্রপতি পদে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে তিনিই প্রার্থী হচ্ছেন, নাকি বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো চমক দেখাবেন—তা আজই স্পষ্ট হতে পারে।
দলীয় একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিএনপি, সরকার ও জাতীয় সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে দলের নতুন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কে হবেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন এবং মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনে কাকে প্রার্থী করা হবে—এসব বিষয় নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা চলছে।
স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ দুপুর ১২টায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এর আগে গত ১০ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের সর্বময় ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপরই প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, বৈঠকের পর মনোনীত প্রার্থীর স্বাক্ষর, প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
মির্জা ফখরুল হলে খালি হতে পারে তিন গুরুত্বপূর্ণ পদ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত হলে তার বর্তমান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হবে—স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর পদ, বিএনপির মহাসচিব পদ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের সংসদ সদস্য পদ।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মহাসচিব পদ শূন্য হলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসন শূন্য হলে উপনির্বাচনে তার ছোট ভাই ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনকে দলীয় প্রার্থী করা হতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দিয়েই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব চালিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
স্থায়ী কমিটিতেও আসতে পারে নতুন মুখ
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে একটি পদ শূন্য হবে। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ায় স্থায়ী কমিটির আরেকটি পদ শূন্য হয়েছে। ফলে দুটি পদেই নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দল তাকে যেভাবে দায়িত্ব দেবে, সেটি বিএনপি চেয়ারম্যান ও দলের নীতিনির্ধারকরাই ঠিক করবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গত রোববার নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও রুহুল কবির রিজভী ফরম দুটি সংগ্রহ করেন।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি বিএনপি। ফলে আজকের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ও পরবর্তী ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।








আপনার মতামত লিখুন