কুবিতে পরীক্ষায় অসদুপায়: ১৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ১৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাত্রার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ১২ জন শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া একজন শিক্ষার্থীকে একটি কোর্স পুনরায় সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরেকজনের ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট বাতিল করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৭তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার হলে অনৈতিক উপায় অবলম্বন, মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার এবং চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন—
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের এ. জেড. এম. ওমর ফারুক ও মো. শাহরিয়ার আহমেদ, স্নাতকোত্তর ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিরিন আক্তার মারিয়া; স্নাতক ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের নাঈম খান ও সাব্বির আহাম্মেদ শিমুল।
আইসিটি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল মোস্তফা মো. মহিউদ্দিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. সাঈদ আহমেদ রিফাত, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের (পুনঃভর্তি ২০২৪–২৫) ইসরাত জাহান মুনিবা।
এছাড়া প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. হিজবুল্লাহ আরেফীন তাজবী ও মো. হাসমত আলী এবং ইংরেজি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের সেলিম আহমেদ শিমুল ও ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের সোমাইয়া ফাতেমাও বহিষ্কারের তালিকায় রয়েছেন।
অন্য সিদ্ধান্তের মধ্যে, গণিত বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইখতার জাহান ইথিলাকে ‘কম্পিউটার ফান্ডামেন্টালস’ কোর্সটি পুনরায় সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মার্কেটিং বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দিপক চন্দ্র দেবের ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট জাল প্রমাণিত হওয়ায় তার ইন্টার্নশিপ ও সংশ্লিষ্ট কোর্স বাতিল করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ইন্টার্নশিপ সুপারভাইজারকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরী বলেন, পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের কারণে বিভিন্ন বিভাগের ১৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।
শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন বিভিন্ন বিভাগ থেকে অভিযোগ আসে। যাচাই-বাছাই শেষে শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।








আপনার মতামত লিখুন