মানসিক স্বাস্থ্যের দিশারি খুবি শিক্ষার্থীদের ‘টিম মাইন্ড মেটস’

বর্তমান সময়ের ব্যস্ত অ্যাকাডেমিক জীবনে শিক্ষার্থীদের এক নীরব শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে মানসিক চাপ ও একাকীত্ব। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন উদ্যমী শিক্ষার্থী ‘মাইন্ড মেটস’ নামে একটি টিম গঠন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ ব্যাচের পাঁচজন মেধাবী শিক্ষার্থী এই প্রজেক্টটিতে কাজ করছেন। সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের তামিম হাসান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ফারজানা জাহান, গণিত ডিসিপ্লিনের শামীম আহমেদ লিয়ন, ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের তাসমিয়া হাসান এবং কেমিস্ট্রি ডিসিপ্লিনের মুমতাহেনা।
গতবছর সারা দেশের ২০০টিরও বেশি টিমকে পেছনে ফেলে, ছয় মাসের এক দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর পথচলা শেষে ‘সাইকোচ বাংলাদেশ সামার চ্যালেঞ্জ ২০২৫’-এ ‘মোস্ট হাই ইমপ্যাক্ট টিম’ হিসেবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ টিম ‘মাইন্ড মেটস’।
প্রজেক্টের অংশ হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাসে দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ সেমিনার আয়োজন করে ‘টিম মাইন্ড মেটস’। “Mind Bridge: Bridging Minds, Breaking Silence” শীর্ষক এই আয়োজনের মাধ্যমে ৮০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর মাঝে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেমিনারটিতে বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি কিছু বিষয় নিয়ে সেশন পরিচালনা করা হয়, যার মধ্যে ছিল—মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, একাডেমিক ও ফ্যামিলি প্রেসার ম্যানেজমেন্ট, নেগেটিভ থট ম্যানেজমেন্ট এবং লাইফটাইম পাথওয়ে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই উদ্যোগকে সফল করে তোলে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সচেতনতা তৈরিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটাতে চায় ‘মাইন্ড মেটস’। প্রতিযোগিতার শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই গৌরব কেবল তাদের একার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের তারুণ্যের মানসিক সুস্বাস্থ্যের পথে এক বড় জয়।
তাদের লক্ষ্য সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের তামিম হাসান জানান “আমরা চাই মাইন্ড মেটস সাধারণ শিক্ষার্থী এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি মজবুত সেতুবন্ধন হয়ে উঠুক। কোনো শিক্ষার্থী যখন উদ্বেগের চোরাবালিতে হারিয়ে যেতে বসবে, আমরা বন্ধুর মতো তার হাত ধরবো। আমরা তাকে সঠিক পথ দেখাবো যে ঠিক কোথায় গেলে সে তার সংকটের সমাধান পাবে।”
প্রজেক্টটির বিশেষত্ব হলো এর মানবিক আবেদন। দলের সদস্য ফারজানা জাহান জানান, তারা পেশাদার সাইকোলজিস্ট নন, কিন্তু তারা শিখেছেন কীভাবে সহমর্মিতার সাথে একজনের কথা শুনতে হয়। তিনি বলেন, “আমাদের স্বপ্ন হলো, যখনই কোনো শিক্ষার্থীর মন ভারাক্রান্ত হবে, মাইন্ড মেটস হবে তার জন্য এক নিরাপদ ঠিকানা।”








আপনার মতামত লিখুন