খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা: ইউনিডেক্সের এম্বেসেডর

আন্তর্জাতিক মান, আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে রপ্তানিতে আসবে নতুন দিগন্ত
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
ইউরোপের বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা: ইউনিডেক্সের এম্বেসেডর

ফোরকান হায়দার চৌধুরী। — ফাইল ছবি

বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য ইউরোপের বাজারে আরও বিস্তৃতভাবে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক খাদ্য আমদানিকারক ও পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ডাচ এক্সপোর্টার্সের (ইউনিডেক্স) এম্বেসেডর ও এডভাইজার ফোরকান হায়দার চৌধুরী। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বেলজিয়ান মনে করেন, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিয়মিত বাজারসংযোগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা ইউরোপের বাজারে আরও বাড়বে। তিনি জানান বর্তমানে এই বাজারের আর্থিক মূল্য বছরে শত কোটি টাকারও বেশী।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮৯ সালে রোল্যান্ড ইয়ানসেন একটি ছোট উদ্যোগ হিসেবে ইউনিডেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। শোবার ঘরে একটি ফ্যাক্স মেশিন নিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এথনিক ফুড ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। পারিবারিকভাবে রোল্যান্ড ইয়ানসেনের মসলা আমদানি–রপ্তানির ব্যবসার অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর বাবা ভারত থেকে তেজপাতা, জিরা, হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন মসলা আমদানি করে নেদারল্যান্ডসে এনে সুরিনাম, কুরাসাওসহ বিভিন্ন ডাচ অঞ্চলে রপ্তানি করতেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ইউরোপে বসবাসরত অভিবাসীদের নিজ দেশের খাদ্যপণ্যের চাহিদাকে লক্ষ্য করে ইউনিডেক্সের কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই দুটি খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। একটি এথনিক বাজার, যেখানে বিভিন্ন দেশের গ্রোসারি ও বিশেষায়িত দোকানে পণ্য সরবরাহ করা হয়। অন্যটি মূলধারার খুচরা বাজার, যেখানে বড় সুপারমার্কেট ও রিটেইল চেইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ফোরকান হায়দার চৌধুরী জানান, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ইউনিডেক্স প্রতিষ্ঠাতা রোল্যান্ড ইয়ানসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ২০০৭ সালের অক্টোবরে তিনি ‘কি অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার (ইউরোপ)’ হিসেবে ইউনিডেক্সে যোগ দেন। এর আগে তিনি অন্য একটি বহুজাতিক কোম্পানির সিইও হিসাবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ইউনিডেক্স এর ‘ডিরেক্টর অব সেলস’ পদে দায়িত্ব পান। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির সিইও আমাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন যা এখনও অব্যাহত আছে। পারস্পরিক বিশ্বাসের এই পরিবেশই নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

ইউনিডেক্স বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ড্রাই ফুড, পানীয় এবং হিমায়িত খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করছে। হেলসিংকি থেকে মাল্টা পর্যন্ত বিস্তৃত বাজারে প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহ নেটওয়ার্ক রয়েছে। তিনি জানান, পশ্চিম আফ্রিকার ঘানা, নাইজেরিয়া, আইভরিকোষ্ট ও সেনেগাল থেকে পাম অয়েল, পাম ক্রিম, কাসাভা ও বিভিন্ন ধরনের ফ্লাওয়ার আমদানি করা হয়। এ ছাড়া নরওয়ে থেকে সল্টেড ফিশ (বাকালাও) এবং চীন থেকে তেলাপিয়া মাছ আমদানি করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিপনন করা হয়।

বাংলাদেশি পণ্য প্রসারে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর উদ্যোগে প্রাণ, বিডি ফুড, ইফাদ, ড্যানিশসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য ইউনিডেক্সের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে পৌঁছাতে শুরু করে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ফ্রোজেন মাছ, বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্যও নিয়মিত আমদানি করা হচ্ছে। ইউনিডেক্স বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানীকারকদের মাধ্যমে এই বাজার ক্রমাগত সম্প্রসারিত করছে। এই পন্যসমূহ এশিয়ানদের বাইরেও ইউরোপে বসবাসরত আরব, আফ্রিকান এবং ইউরোপিয়ানদের মাঝে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, নতুন সরবরাহকারী খুঁজে বের করতে তিনি নিয়মিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক খাদ্য প্রদর্শনীতে অংশ নেন। দুবাইয়ের গালফ ফুড, জার্মানির আনুগা, ফ্রান্সের সিয়াল এবং থাইল্যান্ডের থাইফেক্স প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ইউনিডেক্স ইউরোপভিত্তিক এশিয়ান ফুড গ্রুপের সঙ্গে একীভূত হয়ে একটি বৃহত্তর ব্যবসায়িক গ্রুপ গঠন করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়ক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং ইউরোপজুড়ে বাজার সম্প্রসারণের সক্ষমতা বহুগুনে বেড়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উৎপাদকদের জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এক সৌজন্য সাক্ষাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বাজারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন মন্ত্রীর কথায় বর্তমান নির্বাচিত সরকারের পজিটিভ মনোভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

ব্যবসায়িক সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে তিনি মানবিক সম্পর্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “ব্যবসা শুধু চুক্তি বা আর্থিক লেনদেনের বিষয় নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সততা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।” তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের জন্য ইউরোপের বাজারে আরও বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আ/ম

একাডেমিক কাজে এআই এর ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার

সাদিক মাহমুদ সিয়াম, বিএমইউ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
একাডেমিক কাজে এআই এর ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার

শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দায়িত্বশীল ও কার্যকর ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘Working Smarter with AI: Practical Productivity for Academics’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আয়োজিত সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও একাডেমিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সেমিনারে মূল বক্তা ও রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডনে Wipro Ltd.-এর পরিচালক এনামুল হক। তিনি শিক্ষাদান, গবেষণা, একাডেমিক লেখালেখি ও প্রশাসনিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন বাস্তব দিক তুলে ধরেন।

সেমিনারে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, গবেষণার সততা, তথ্যের গোপনীয়তা এবং এআই ব্যবহারের তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও প্রয়োজনীয়তা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় লাইভ ডেমোনস্ট্রেশনের মাধ্যমে সাহিত্য পর্যালোচনা (Literature Review), নথি বিশ্লেষণ, একাডেমিক লেখালেখি এবং গবেষণা ব্যবস্থাপনায় এআই এর ব্যবহারিক প্রয়োগ তুলে ধরা হয়।

পরে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বক্তা। প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে সেমিনারটি শেষ হয়।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এআই এর কার্যকর ব্যবহার এবং একই সঙ্গে এর নৈতিক ও দায়িত্বশীল প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সেমিনারে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত Rabbi's News


শীর্ষ সংবাদ:
একাডেমিক কাজে এআই এর ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে সেমিনার লিডারস প্রোগ্রাম সম্পন্ন করলেন সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান তুহি পবিপ্রবির ইউনিভার্সিটি স্কয়ারে যুদ্ধবিমান পুনঃস্থাপনে বিমানবাহিনীর টেকনিক্যাল টিম চবিতে কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ, ৩ জনের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন, কমেছে গ্যাসের সরবরাহ বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে মালয়েশিয়াকে আহ্বান ডিসিসিআই সভাপতির জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি গণঅধিকারের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ডিসেম্বরে হরতালের হুঁশিয়ারি জেডিপির চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে মতামত নেওয়া হবে অংশীজনদের জাপান-বাংলাদেশ চেম্বারের নতুন সভাপতি কাজুউকি কাতাওকা, মহাসচিব রাবিউল আলম এপোক্সাইড রেজিনের নামে প্রস্তুত আঠা, বেনাপোলে রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা চবিতে ৫০০ বৃক্ষ বিতরণ, প্রয়াত অনিককে স্মরণ ফরিদগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন রিমন গ্রেপ্তার শাহরাস্তি শাহশরীফ ডিগ্রি কলেজে একাদশের উদ্বোধনী ক্লাস শাহরাস্তিতে বেরনাইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন স্থগিত ১৮তম বিজিএস-এ ববির তিন শিক্ষার্থী সিভিল জর্জ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত পবিপ্রবিতে মার্কেটিং ক্লাবের আয়োজনে মার্কেটিং বিস কেস কম্পিটিশন কুবিতে গবেষণা বিষয়ক ‘আনোয়ার হোসাইন মেমোরিয়াল গণিত সেমিনার’ অনুষ্ঠিত চবিতে ৫ হাজার ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর উদ্যোগ অথেন্টিক ফাউন্ডেশনের শাহরাস্তিতে অবৈধ মাটি কাটায় ২ লাখ টাকা জরিমানা