১১ মাসে এনবিআরের রেকর্ড ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মে ২০২৬ পর্যন্ত এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা।
রবিবার এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি ২২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ২ শতাংশ।
এনবিআর জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে মে পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। প্রথম ১১ মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
খাতভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, প্রথম ১১ মাসে কাস্টমস অনুবিভাগে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, ভ্যাট অনুবিভাগে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আয়কর অনুবিভাগে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
এদিকে জুন মাসের প্রথম ২০ দিনেই ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মোট রাজস্ব আদায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার চেয়েও বেশি।
এনবিআর আশা করছে, জুন মাসের বাকি ১০ দিনে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড হবে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অনুবিভাগে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব টাস্কফোর্স আপিল, ট্রাইব্যুনাল, উচ্চ আদালত ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি কর ফাঁকি শনাক্তকরণ, অডিট জোরদার, উৎসে কর ও ভ্যাট আদায়ের তদারকি এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের ওপর নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এনবিআরের মতে, এসব উদ্যোগের ফলে রাজস্ব প্রশাসনে গতি এসেছে এবং দেশের প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।








আপনার মতামত লিখুন