মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়
শেখ হাসিনাসহ পলাতকদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে টিএফআই-জেআইসি সেলে গুম-খুন ও জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একইসঙ্গে গুমের দুই মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
বাকি দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সকাল ৮টার পর তিন মামলার ওপর শুনানি হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
> “আজ তিন মামলায় মোট ১৫ আসামিকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। টিএফআই সেলে গুম–নির্যাতনের মামলায় ১৭ আসামির ১০ জনকে হাজির করা হয়। আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”
তিনি আরও জানান,
> “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের হাজিরের জন্য দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সাত দিনের মধ্যে—অর্থাৎ ২৯ অক্টোবরের মধ্যে—বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে। পরবর্তী শুনানি হবে ২০ নভেম্বর।”
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
অন্যদিকে জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার দায়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজির হওয়া দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
৮ অক্টোবর প্রসিকিউশন পৃথক তিন মামলায় ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
এর মধ্যে এক মামলায় ১৭, আরেকটিতে ১৩ এবং অন্যটিতে ৪ জনকে আসামি করা হয়। দু’টি মামলাতেই শেখ হাসিনার নাম রয়েছে।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে সেনা সদর থেকে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
১৫ সেনা কর্মকর্তারা হলেন (যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছেন) : ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম (সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক, র্যাব), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান (সাবেক পরিচালক, র্যাব গোয়েন্দা শাখা), লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লে. কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লে. কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত বিন আলম (বিজিবি), মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন (সাবেক পরিচালক, ডিজিএফআই), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
সকালে ট্রাইব্যুনালে সেনা কর্মকর্তাদের হাজিরের সময় রাজধানীর কাকরাইল, মৎস্য ভবন, পল্টন ও হাইকোর্ট এলাকায় কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়।
এসময় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। ট্রাইব্যুনাল ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।








আপনার মতামত লিখুন