চবিতে বাঁধনের উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন বাঁধনের উদ্যোগে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের তথ্য হালনাগাদ ও সংগঠনের নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ‘একের রক্ত, অন্যের জীবন; রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের সামনে বুথ স্থাপন করে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদানে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ, পুরোনো রক্তদাতাদের তথ্য হালনাগাদ এবং বাঁধনের কার্যক্রমে আগ্রহী নবীন শিক্ষার্থীদের সংগঠনের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাঁধন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য সচিব জাকিরুল ইসলাম বলেন, “একজন মানুষের রক্তদান অন্য একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজে সম্পৃক্ত করা আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। বাঁধন শুধু রক্তের গ্রুপ নির্ণয় বা রক্ত সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রয়োজনের সময়ে রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করে। মানবিক এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী বলেন, “বাঁধনের মতো একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠনের কার্যক্রমে নবীন শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ আমাদের আশাবাদী করেছে।
জরুরি মুহূর্তে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা এবং রক্তদাতার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তের গ্রুপ আগে থেকেই জানা থাকলে দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার কিংবা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। আমরা চাই, প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের রক্তের গ্রুপ জানার পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসুক।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাঁধন পরিবারের আহ্বায়ক সাহিদুল ইসলাম বলেন, “বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের পাশাপাশি আমরা নবীন সদস্য সংগ্রহ করছি, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষার্থীরাও বাঁধনের মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের আরও উৎসাহিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষার্থী শুধু নিজের রক্তের গ্রুপ জানলেই দায়িত্ব শেষ নয়; বরং প্রয়োজনের সময়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসার মানসিকতাও তৈরি করতে হবে। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
বাঁধন শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই নয়, সারাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদাতা তৈরি, রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং প্রয়োজনের সময়ে রক্তের ব্যবস্থা করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মানসিকতা তৈরি, রক্তদানের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সময়ে রক্তের সংকট কমানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।







আপনার মতামত লিখুন