খুঁজুন
শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংকে তারল্য সংকটে নেই কেউ, চুরি হওয়া সম্পদ ফেরাতে চলছে বৈশ্বিক অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
ব্যাংকে তারল্য সংকটে নেই কেউ, চুরি হওয়া সম্পদ ফেরাতে চলছে বৈশ্বিক অভিযান

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

দেশের ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের খুব বেশি কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য তারল্য সংকট নেই। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতকে প্রথমে স্থিতিশীল করতে হচ্ছে, কারণ অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে। বিশেষ করে আলোচিত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক আগে থেকেই সমস্যাগ্রস্ত ছিল। আগের সরকারের প্রণীত বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।

গভর্নর বলেন, আমাদের জানামতে ওই পাঁচটি ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোতে তেমন কোনো তারল্য সংকট নেই। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রশ্নে সরকারের সক্ষমতা ও ন্যায়বিচারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। কারণ একদল মানুষের অর্থ আত্মসাতের দায় সাধারণ করদাতাদের ওপর পুরোপুরি চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

ঋণ খেলাপি বা নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। সুদের হার বৃদ্ধি, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিলম্বের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধে সময় লেগেছে। তবে সব ক্ষেত্রকে একইভাবে ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। এ জন্য একটি ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ শনাক্ত ও জব্দ করতে ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থ পুনরুদ্ধারও সম্ভব হয়েছে।

গভর্নর জানান, আন্তর্জাতিকভাবে চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারের গড় হার ২ শতাংশেরও কম এবং এ প্রক্রিয়ায় ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবুও সরকার এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে দেশকে ধীরে ধীরে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু হবে। এ লক্ষ্যে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ফলে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় প্রতিষ্ঠানের লেনদেনেও কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে এবং নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এনবিআর চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

বার কাউন্সিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষা: আইন পেশায় প্রবেশের প্রথম ধাপ ও প্রস্তুতির বাস্তবতা

অ্যাডভোকেট জয়নাব খাতুন জয়া
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
বার কাউন্সিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষা: আইন পেশায় প্রবেশের প্রথম ধাপ ও প্রস্তুতির বাস্তবতা

বাংলাদেশে আইন পেশা একটি সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল পেশা। একজন আইনজীবী শুধু আদালতে মামলা পরিচালনাই করেন না, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই পেশায় প্রবেশের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক। আর সেই সনদ অর্জনের প্রথম ধাপ হলো বার কাউন্সিলের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা।

প্রতিবছর দেশের হাজার হাজার আইন স্নাতক এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা অনেক হলেও উত্তীর্ণ হওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। এর অন্যতম কারণ হলো পরীক্ষার সঠিক ধরন সম্পর্কে অজ্ঞতা, পরিকল্পনাহীন প্রস্তুতি এবং মৌলিক আইনি জ্ঞানের ঘাটতি।

বার কাউন্সিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষা মূলত বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, তামাদি আইন, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, আইনজীবী ও বার কাউন্সিল সম্পর্কিত বিধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। ফলে শুধু মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভর করলে সফল হওয়া কঠিন। পরীক্ষার্থীদের আইনের মূলনীতি ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হয়।

বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পরীক্ষাভিত্তিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। ফলে আইন সম্পর্কে তাত্ত্বিক জ্ঞান থাকলেও পেশাগত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা গড়ে ওঠে না। বার কাউন্সিল পরীক্ষায় সফল হতে হলে নিয়মিত অধ্যয়ন, পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ এবং আইনসমূহের মৌলিক বিষয়গুলো বারবার পুনরালোচনা করা প্রয়োজন।

বার কাউন্সিল প্রিলি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করা উচিত ইন্টার্নশিপের সময় থেকেই। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো পড়া, নোট তৈরি করা এবং নিয়মিত মডেল টেস্টে অংশগ্রহণ করা সফলতার সম্ভাবনা বাড়ায়। একই সঙ্গে আইন সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক সংশোধনী ও গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও ধারণা রাখা প্রয়োজন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রিলিমিনারি পরীক্ষাকে শুধুমাত্র একটি চাকরির পরীক্ষার মতো বিবেচনা করা উচিত নয়। এটি একজন আইনজীবীর মৌলিক দক্ষতা যাচাইয়ের একটি প্রক্রিয়া। তাই প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করলে পরবর্তী লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা এবং পেশাগত জীবনে তা বিশেষভাবে সহায়ক হয়।

তবে বর্তমান সময়ে পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অভিযোগ হলো পরীক্ষার অনিয়মিত আয়োজন এবং দীর্ঘসূত্রতা। অনেক শিক্ষার্থী আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বছরের পর বছর বার কাউন্সিল পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকেন। এতে তাদের কর্মজীবন শুরু করতে বিলম্ব হয় এবং মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা আয়োজন করা এবং দ্রুত ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা।

আইন পেশা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের পথ নয়; এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি সামাজিক দায়িত্বও বটে। তাই বার কাউন্সিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষা কেবল একটি পরীক্ষার নাম নয়, বরং একজন আইনজীবীর পেশাগত যাত্রার প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং আইনের প্রতি আন্তরিক আগ্রহ থাকলে এই ধাপ অতিক্রম করা কঠিন নয়।

পরিশেষে বলা যায়, বার কাউন্সিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সফলতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস এবং আইনের মৌলিক বিষয়গুলোর গভীর অনুধাবন। দক্ষ ও যোগ্য আইনজীবী তৈরির লক্ষ্যে এই পরীক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম, এবং এর মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হতে পারে।

জয়নাব খাতুন জয়া,
অ্যাডভোকেট – ঢাকা জজ কোর্ট।

পোর্টাল বাস্তবায়নে: Rabbi's News


শীর্ষ সংবাদ:
বার কাউন্সিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষা: আইন পেশায় প্রবেশের প্রথম ধাপ ও প্রস্তুতির বাস্তবতা ব্যাংকে তারল্য সংকটে নেই কেউ, চুরি হওয়া সম্পদ ফেরাতে চলছে বৈশ্বিক অভিযান ৪১ লাখ নারী পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, বাছাই হবে নিরপেক্ষভাবে: অর্থমন্ত্রী সংকটের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা, তবে জ্বালানি ও ঋণসুদে উদ্বেগ রয়ে গেছে: বিকেএমইএ ৪০ মিনিট পর স্বাভাবিক ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম জাবির গণিত বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে অধ্যাপক আমিনুর রহমান প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বাকৃবিতে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপিত, আড়াই হাজার শিশুকে দুধ পান চাঁদপুরে মোশারফ ফাউন্ডেশন ফুটসাল কাপের গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত জাপানের আইটিইই পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন খুবি শিক্ষার্থীর জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছাত্রত্ব শেষ ভিপি ও জিএসের জামালপুর রানার্সের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্রেডিটেশন বিষয়ক কর্মশালা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মসূচির প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের মিছিল, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি দেশসেরা বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদ: সিমাগো র‍্যাংকিং-২০২৬ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে জবিতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ বিএমডিএর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় কৃষিবিদ তুহিনকে বাকৃবিতে সংবর্ধনা ক্যাপাসিটি চার্জের অপচয় বন্ধ করে বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি এবি পার্টির প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নে আরও শক্তিশালী হবে বিএসটিআই: শিল্পমন্ত্রী বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ববি শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি