ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গায়ে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহপাঠীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় সপ্তম শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, গায়ে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আল জিদান সরকার (১২)-এর ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শিশু জিদান সরকারের ওপর হামলাকারীরা একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাব্বির হোসেন (১৩), পিতা: মোমেন মিয়া; আরাফাত হোসেন (১৩), পিতা: আকরাম হোসেন; রামিম (১৩), পিতা: মো. শাহজাহান মিয়া; এবং জিহাদ (১৩), পিতা: মো. আলাউদ্দিন। তাদের সকলের বাড়ি ইব্রাহিমপুর গ্রামে, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় আটক করা হয়। পরে তাদের প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এবং পরবর্তীতে নবীনগর থানায় সোপর্দ করা হয়।
আহত আল জিদান সরকার ইব্রাহিমপুর গ্রামের প্রবাসী উজ্জ্বল সরকারের ছেলে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত শিক্ষার্থীর মা আয়েশা বেগম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আয়েশা বেগম বলেন,
“স্কুলের ভেতরে আমার ছেলের ওপর এভাবে হামলা হবে, তা কখনো কল্পনা করিনি। সে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। আমি দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চাই এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
এ বিষয়ে ইব্রাহিমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন,
“ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ও অভিভাবক জানান, শিশু-কিশোরদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অবাধ ব্যবহার, পারিবারিক তদারকির অভাব এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে অনেকেই সহিংস আচরণের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি থানার বাইরে সরকারি দায়িত্বে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে থানার ডিউটি অফিসারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, আটক চার শিক্ষার্থীর বয়স ১৩ বছর হওয়ায় শিশু সুরক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী তাদের ছবি প্রকাশ করা হয়নি।








আপনার মতামত লিখুন