পবিপ্রবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মসূচি, সাত দিনেও কার্যকর ব্যবস্থা নেই

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বরিশালের বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মসূচি পালনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং’ ব্যানারে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে মিছিল করার পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসংবলিত পোস্টার স্থাপন করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজার ছুটির সময় ধারণ করা ভিডিওটি গত ২৮ অক্টোবর (সোমবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন পবিপ্রবি শাখা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক। ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপূজার ছুটিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও একাডেমিক কার্যক্রম সীমিত ছিল। এ সুযোগে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে বহিরাগতদের নিয়ে বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক। এ সময় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের জিম্মি করে তাঁরা ভেতরে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ক্যাম্পাসে মিছিল ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসংবলিত পোস্টার স্থাপন করা হয়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন কর্মসূচি পালিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করেন, তা বোধগম্য নয়। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা নাহিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছুটিতে থাকাকালে বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসের ফটক খোলা ও অরক্ষিত থাকার সুযোগে কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে বহিরাগতরা জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে ঢুকে ঝটিকা মিছিল করে পালিয়ে যান। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিওসহ প্রমাণ দিয়ে প্রক্টর ও উপ-উপাচার্যকে মামলা করার অনুরোধ জানাই। প্রক্টর দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, ‘পূজার ছুটিতে ক্যাম্পাস ফাঁকা থাকার সুযোগে আনসার সদস্যদের জিম্মি করে অছাত্রদের নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। ঘটনার সময় ক্যাম্পাসের ক্যামেরা সচল না থাকায় তাঁদের শনাক্ত করা যায়নি। বিমানবন্দর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো করবে।’
ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ও প্রমাণের অপেক্ষায় থাকায় প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে কিছুটা সময় লেগেছে। ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিলম্ব করা হয়নি।’
ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি দেখছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গত ২১ অক্টোবরের ঘটনার পুনঃতদন্তের দায়িত্ব প্রক্টরকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রক্টরই বিস্তারিত জানাতে পারবেন। ঘটনাটি নিয়ে কোনো ধরনের বিলম্ব হয়ে থাকলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’






আপনার মতামত লিখুন