চবি ছাত্রদলের ৬ দফা; চাকসু ভিপির বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রকাশ্যে ক্ষমার দাবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ভিপি এবং চবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসাইন রনির বিরুদ্ধে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং পবিত্র কুরআনের আয়াত নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কটূক্তির অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চবি শাখা। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ৬ দফা দাবি পেশ করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৩ই অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, “চবি শিবির সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসাইন রনির অতীতের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ করা হয়, ২০২০ সালে দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে তিনি আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং পবিত্র কুরআনের পবিত্র বাণী “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গি ও কটূক্তি প্রকাশ করেন।”
ছাত্রদলের নেতাদের মতে, “পবিত্র কুরআনের বাণী ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে উপহাস করা ইসলামী শিষ্টাচার, নৈতিকতা এবং সাধারণ রাজনৈতিক সৌজন্যের পরিপন্থী। তাছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে নিজেকে সাধারণ শিক্ষার্থী দাবি করে ক্যাম্পাস অবরুদ্ধ করা এবং শিক্ষার্থীদের উপর ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির ব্যর্থ চেষ্টা করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, “বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিরোধী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন (ছাত্রদল, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র অধিকার পরিষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী ইত্যাদি) রাজপথে নির্যাতন ও কারাবরণ সহ্য করে আন্দোলন করলেও ইসলামী ছাত্রশিবির রাজপথে দৃশ্যমান ছিল না। উল্টো তারা ছাত্রলীগের ভেতরে গুপ্তভাবে থেকে ক্ষমতার সুবিধাভোগী অবস্থায় অবস্থান নিয়েছিল এবং আবরার ফাহাদ হত্যার মতো ঘটনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা বজায় রাখার লক্ষ্যে ছাত্রদল চবি প্রশাসনের কাছে নিম্নলিখিত ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করে:
১. চাকসু ভিপি ও চবি শিবির সভাপতি ইব্রাহিম রনি কর্তৃক ব্যঙ্গাত্মক ঘটনার বিষয়ে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আনতে হবে। ভিডিওর সত্যতা ও বক্তব্য প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় আইন, চাকসুর গঠনতন্ত্র ও সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম হোসাইন রনিকে পবিত্র কুরআনের আয়াত ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনের জন্য দেশবাসী ও চবি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৩. বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তাদের গোপন ভূমিকা ও গুপ্ত রাজনীতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ করে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য ছাত্ররাজনীতি চর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. আবরার ফাহাদ হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ছাত্রশিবিরের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, গুপ্ত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং সন্দেহের রাজনীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৬. ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের চরিত্রহনন ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ‘ভুইফোঁড়’ ক্যাম্পাসভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের অ্যাডমিনদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং পেজগুলো বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে চবি শাখা ছাত্রদলের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






আপনার মতামত লিখুন